ভূমিকম্প  সচেতনতা

ভূমিকম্প ঝুঁকি, প্রস্তুতি ও করণীয়


ভূমিকম্পের সচেতনতা ও প্রস্তুতি



ভূমিকম্পের সময় আসলে কতটুকু সময় পাওয়া যায় ?

ভূমিকম্পের সময় প্রথম যে কম্পন টের পাওয়া যায় তা হলো প্রাইমারি ওয়েভ বা P-wave. এর গতিবেগ ১-১৪ কিমি/সে পর্যন্ত হতে পারে। এরপর আসে সেকেন্ডারি ওয়েভ বা Shear wave যার গতিবেগ ১-৮ কিমি/সে। এ দু’টো বডি ওয়েভ (চিত্র-ঘ)। এছাড়া লাভ এবং রেলেই নামে আরো দু’টো ওয়েভ আছে যেগুলো সারফেস ওয়েভ এবং তুলনামূলকভাবে শ্লথগতিসম্পন্ন। আমরা ভূমিকম্পে যে ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ধ্বংস হতে দেখি তার জন্য মূলত দায়ী সেকেন্ডারি ওয়েভ এবং সারফেস ওয়েভগুলো- কারণ, এগুলোই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। এখন প্রাথমিক ভূ-কম্পন বা P-wave টের পাবার কতো সময় পর বাকিগুলো টের পাবেন? উত্তর হচ্ছে ব্যবধান খুব সামান্য। ধরুন আপনার অবস্থান ভূমিকম্পের এপিসেন্টার বা উৎপত্তিস্থল থেকে ২০০ কিমি দূরে। সেকেন্ডে যদি ১৪ কিমি বেগে P-wave আসে তবে ২০০ কিমি অতিক্রম করতে সময় নেবে প্রায় ১৪ সেকেন্ড। আর এরপর ৮ কিমি/সে বেগে সেকেন্ডারি ওয়েভ আসতে সময় নেবে প্রায় ২৫ সেকেন্ড। অর্থাৎ আপনি ভূমিকম্প টের পাবার মোটামুটি ১১ সেকেন্ডের ব্যবধানে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। এর মধ্যেই আপনাকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভূমিকম্পের পূর্বে যা করণীয় :


ভূমিকম্পকালীন করণীয় বিষয়সমুহ





ভূমিকম্প পরবর্তী করনীয়




ভূমিকম্পের সচেতনতা :

তাই ভূমিকম্প টের পেলে সবার আগে যেটা করবেন, তা হলো, আপনার গায়ে যাতে কিছু না এসে পড়ে। চিন্তা করুন, ভূমিকম্পের সময় আপনি যে দালানটিতে আছেন, সেটা যদি ভেঙেই পড়ে, তবে তারও অনেক আগেই আপনার ফ্লোরের ওপর শোকেস, টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, প্লেট খোরা আর ঘরের অন্যান্য সব ভারী ভারী জিনিস পড়তে থাকবে। কাজেই আপনার প্রথম কাজ হলো, এসবের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা; আরো ভেঙে বললে, মাথাটাকে রক্ষা করা। সবচেয়ে নিরাপদ হলো ডাইনিং টেবিল বা খাটের নিচে ঢুকে পড়া। একটা প্রোটেকশন নেয়া। আরেকটু পরিস্কার করে বললে, আপনার চারপাশে যেন একটা খোলামেলা ত্রিমাত্রিক স্পেস থাকে। বিল্ডিং হেলে পড়ুক আর ধ্বসে পড়ুক, এই স্পেসটা পরবর্তিতে আপনার উদ্ধার হবার সম্ভাবনাকে অনেকগুন বাড়িয়ে দেবে। আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। ১. ভূমিকম্প হলে সবাই মিলে কোথায় ঢুকবেন সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। বড় ডাইনিং টেবিল থাকলে সেটার নিচেই সবচেয়ে ভালো। উঁচু খাট থাকলে সেটাও খুব ভালো, বিশেষ করে ম্যাট্রেস (চাপ শোষন করবে) আর শক্ত পাটাতন থাকলে তো কথাই নেই। ২. আর লাগবে ভূমিকম্প সারভাইবাল কিট -- মিনিমাম, একটা টর্চ লাইট, দুই পাউন্ড টোস্ট বিস্কিট আর এক বোতল পানি। এগুলোকে আশ্রয় নেয়ার জন্য ঠিক করা জায়গাটার ধারেকাছে কোথাও রাখুন, যাতে ভূমিকম্পের সময় আশ্রয় নিলে হাতের নাগালে থাকে। ৩. বড় ভূমিকম্প একবার হয়েই শেষ না, কয়েকদিন ধরে বারবার হয়। মাঝে মাঝে আফটারম্যাথ মুল ভূমিকম্পের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। কাজেই একবার বড় ভূমিকম্প হলে পরের কয়েক রাতে ঘুমানোর সময় মাথার কাছে একটা কাঁথা রাখুন, সময়মতো সবচেয়ে জরুরি মাথাটাকে ঢেকে রাখুন। ৪. ভূমিকম্পে আগুন ছড়ায়, বাংলাদেশে কাঠের বাড়ি কম বলে এটার সম্ভাবনা একসময় কম ছিলো, কিন্তু এখন যেরকম ঘিঞ্জি ইলেকট্রিক আর গ্যাসের লাইন, এক জায়গায় আগুন লাগলে দাবানল হয়ে যাবে। সবচেয়ে মারাত্নক হলো গ্যাস, এক বাসায় আগুল লাগলে, মুহুর্তে আশপাশের বাসায় গ্যাসের লাইনের মাধ্যমে সেটা ছড়িয়ে পড়বে। কাজেই প্রয়োজনের সময়টুকু ছাড়া, বাকী সময় গ্যাসের মেইন সুইচ অবশ্যই বন্ধ রাখবেন।



হোম | ফিরুন | যোগাযোগ