
রিকটার স্কেলে ভূমিকম্পের পরিমাপ
ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার জন্য রিখটার স্কেল ব্যবহার করা হয়। এই স্কেলের ব্যবহার প্রথম শুরু হয় ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে, ১৯৩৫ সালে। ব্যবহারকারী হচ্ছেন ফ্রান্সিস রিখটার ও বেনো গুটেনবার্গ। ১৯৭০ সাল থেকে ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার জন্য ব্যবহার শুরু হয় মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেলের। প্রথম ব্যবহার শুরু করে ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে। এখন যদিও বেশির ভাগ সময় মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল ব্যবহৃত হয়, তবে জনপ্রিয়তা রিখটার স্কেলেরই বেশি। ভূমিকম্পের উৎপত্তির জায়গা থেকে সাইসমোগ্রাফ যন্ত্রের গড় দূরত্ব ব্যবহার করে ভূমিকম্প থেকে নির্গত শক্তির পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। এই স্কেলের বেইস ধরা হয় ১০। রিখটার স্কেলে কোনো ভূমিকম্পের মাপ ১ আর কোনো ভূমিকম্পের মাপ ২ হলে, ২ মাপের ভূমিকম্পটি ১ মাপের ভূমিকম্পের চেয়ে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। আবার কোনো ভূমিকম্পের মাপ ৩ হলে, সেই ভূমিকম্পটি ১ মাপের ভূমিকম্পের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
রিখটার স্কেল ভূমিকম্পের আপেক্ষিক তীব্রতা সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আপেক্ষিক তীব্রতার তুলনা নিম্নরূপ .
এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯.৫। এর উৎসস্থল ছিল চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে ৪৩৫ মাইল দূরে ক্যানিটি নামক স্থানে। ১৯৬০ সালের ২২ মে স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া দুইটায় এটি আঘাত করে। এর প্রভাবে সৃষ্ট সুনামি উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকা ছাড়িয়ে এশিয়া মহাদেশের জাপান, ফিলিপিনস্, থাইল্যান্ড এবং অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশের অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। ঐ একই স্থানে ১৫৭৫ সালের দিকেও ৯.৫ মাত্রার কাছাকছি একটি ভূমিকম্প হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। আমরা যদি ভূমিকম্পের শক্তির কথা চিন্তা করি তাহলে যারপরনাই চমকে যেতে হয়। ভূমিকম্পের শক্তির একক হল টন। পারমাণবিক বোমার শক্তির এককও টন। হিরোশিমায় যে পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়েছিল তার শক্তি ছিল ১৫ কিলোটন। আর মাত্র ৫.০ রিখটার স্কেলের একটি ভূমিকম্পের শক্তিই হয় ৩২ কিলোটন। তবে ভূমিকম্পের শক্তি তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে যায় বলে (আগের পর্ব দ্রষ্টব্য) এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বলে এর শক্তি ও ধ্বংস তুলনামূলক কম দৃষ্টিগ্রাহ্য ও অনুভূত হয়। ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের শক্তি ১৭৮ মেগাটন, ৮.৫ মাত্রার ৫.৬ গিগাটন এবং ৯.০ মাত্রার ৩২ গিগাটন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ভূমিকম্প কত মারাত্মক হতে পারে। সুতরাং সকলকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সাবধানতা হয়ত ভূমিকম্প টেকাতে পারে না তবে ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে পারে বহুলাংশে।